বাংলাদেশের তৈরি ঐতিহ্যবাহী শাড়ি কোন গুলো ? best sharee collection in bd
- Get link
- X
- Other Apps
বাংলাদেশের তৈরি ঐতিহ্যবাহী শাড়ি কোন গুলো ? best sharee collection in bd
কোন পোশাকে বাঙালী মেয়েদেরকে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়? উত্তরটি বেশ স্পষ্ট, শাড়ি! বাংলাদেশী শাড়িতে রঙ, কাপড়, ডিজাইন এমনকি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমি উঠে আসে। এটিই বাংলাদেশের পোশাক সংস্কৃতিটিকে এত বর্ণিল করে তুলেছে । বাংলাদেশী শাড়ির ধরণের সংখ্যা অনেক । তারমধ্যে অতি পরিচিত ৬ টি বাংলাদেশী শাড়ি হল-
জামদানি শাড়ি :
এই শাড়ির সবচেয়ে অবাক করা বিষয় এটি তৈরির পদ্ধতি। এই জাতীয় জটিল নকশা এবং কাজের ক্ষেত্রে বিশ্বে আর কোনও শাড়ি পুরোটা হাতে তৈরি হয় না । জামদানিকে মসলিন কাপড়ের উত্তরসূরিও বলা হয়, যা তার সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত কাপড় ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, জামদানি প্রথমে মসলিনের একটি নির্দিষ্ট উপ-ধারা হিসাবে শুরু হয়েছিল। প্রাচীনকালে ইউরোপীয়, ইরানি, মুঘল, আর্মেনীয়, পাঠান এবং আরও অনেক ব্যবসায়ী জামদানি ব্যবসায় জড়িত ছিল।
বেনারসি :
বেনারসী শাড়ি বিয়েতে বাংলাদেশের যে কোনও কনের প্রথম পছন্দ। বাংলাদেশী এই শাড়ির উৎস ভারতের বানারসে। স্থানীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, একটা সময় ছিল যখন বেনারসি শাড়ি সোনার সুতোয় বোনা হত। এটি সঠিক কিনা তা নির্ধারণের কোনও উপায় এখন আর নেই তবে বেনারসির সৌন্দর্য এবং আকর্ষণ একটুও কমেনি।
রাজশাহী সিল্ক শাড়ি :
রাজশাহী বাংলাদেশের একমাত্র জায়গা যেখানে ভাল মানের রেশম উৎপাদিত হয়। তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, সর্বোত্তম মানের বাংলাদেশী সিল্ক শাড়িটি রাজশাহীতে উৎপাদিত হয়। রাজশাহী সিল্ক খুব পাতলা এবং নরম। কোন অনুষ্ঠানে পরিধান করা হলে তা খুব দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠে। কাপড়ের কাজটি পাথর, করচুপি, সূচিকর্ম ইত্যাদির সাহায্যে করা হয়। রঙগুলি বেশ উজ্জ্বল। মেয়েদের এটি কেনার মূল কারণ হল এর কোমলতা।
টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি :
টাঙ্গাইল এমন একটি জেলা যেখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি তাঁতি বাস করে। কয়েক শতাব্দী ধরে টাঙ্গাইলে বিশাল তাঁত সম্প্রদায় বসবাস ও তাঁত বুনে আসছে এবং তারা এই একবিংশ শতাব্দীতেও তা পরিত্যাগ করে নাই। ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী যখন প্রতিবাদ হিসাবে স্থানীয় পণ্য ব্যবহার করতে সবাইকে উৎসাহিত করেছিলেন, তখন দেশী শিল্প হিসেবে টাঙ্গাইলের এই শাড়িটির ব্যাপক প্রসার হয়েছিল। পরবর্তীতে এর উত্তরসূরীরাও এটা ধরে রেখেছেন। টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ির বিভিন্ন ধরণ রয়েছে। কটন, হাফ-সিল্ক, সফট সিল্ক, কটন জামদানি, পেঁচানো সুতি এবং বালুচুরি ইত্যাদি হলো টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ির উল্লেখযোগ্য ধরণ।
কাতান শাড়ি :
কাতান শাড়ি পরিচিত এর বৈচিত্রের জন্য । কাতানের ২০টিরও বেশী ধরণ রয়েছে। অপেরা কাতান, দক্ষিণ কাতান, সিল্ক কাতান, মিরপুর কাতান, ভারতীয় কাতান, বেনারসি কাতান, নেট কাতান ইত্যাদি সর্বাধিক বিখ্যাত । কাতান শাড়ি পরতে বেশ আরামদায়ক এবং কাতান শাড়ি দামে বেশ সাশ্রয়ী।
টাঙ্গাইলের মতো পাবনায়ও তাঁতিদের একটি সম্প্রদায় রয়েছে। এই সম্প্রদায়টি টাঙ্গাইলের তাঁতিদের মতোই দক্ষ। পাবনার তাঁতি সম্প্রদায়ের আকার কিছুটা ছোট হলেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে যথেষ্ট অবদান রাখে। তারা মূলত সিল্ক এবং কটন শাড়ি প্রস্তুত করে। রঙ এবং ডিজাইন স্থানীয় তাঁতীরাই নির্ধারণ করেন।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment